বিশ্ব জুড়ে অনলাইনে অনেক আগে থেকেই মার্কেটিং শুরু হলেও আমাদের দেশে অনলাইন মার্কেটিং এর প্রচলন খুব একটা বেশি দিনের নয় এই কারনে অনেকেই অনলাইন বা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের টার্মগুলো গুলিয়ে ফেলেন এদেশে ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে প্রায় সবাইফেসবুক মার্কেটিংকে বুঝে থাকেন কারন, “ফেসবুকআমরা খুব বেশিই চিনিবাংলাদেশে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি একটিভ ইউজার আছে ফেসবুকেই

কারণেই আমারা যখন ডিজিটাল মার্কেটিং এর কথা ভাবি তখন ফেসবুকেই নির্বাচন করি।এজন্য আমরা লোক নিয়োগ করার জন্যও আমারা ফেসবুক মার্কেটিংকেই প্রধান্য দেই।কিন্তু আমাদের প্রয়োজন ডিজিটাল মার্কেটিং। আর শুধু ফেসবুক দিয়েই ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পূর্ন নয়। ফেসবুকের মাধ্যমে যে ব্যবসা পরিচালিত হয় তাকে এফকমার্স বলা হয়। এটা ঠিক যে ফেসবুকে এক্টিভ ইউজার বেশি আছে কিন্তু অন্যান্য মাধ্যমগুলোও আমাদের ব্যবহার করতে হবে সত্যিকার অর্থে ডিজিটাল মার্কেটিং করা জন্য

CnnBangla24  পাঠকদের জন্য আজ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করা হল

আপনাদেরডিজিটাল মার্কেটিংবাঅনলাইন মার্কেটিংএর ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে লিখব, যাতে করে  আপনারা বুঝতে পারেনআপনার ব্যবসার জন্য আসলে কোন ধরনের দক্ষতার মার্কেটার দরকার।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং:

ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনে কোন পণ্য বা সেবার মার্কেটিং করা। আর সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অংশ। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফরম ব্যবহার করে অনলাইনে সক্রিয় মানুষের কাছে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের প্রচারণার নামই হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। অনলাইন মার্কেটিং দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশেও

বাংলাদেশে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কেন করবেন:

বাংলাদেশ এখন সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় এখন ডিজিটাল মার্কেটিং ফলপ্রসু ভূমিকা পালন করতে পারে। দেশে বাংলাদেশে বর্তমানে কোটি কোটি মানুষ ইন্টারনেট, ফেসবুক ব্যবহার করছে। সেখান থেকে সহজেই হাজার হাজার কাস্টমার পাওয়া যাবে পণ্য বা সেবা পৌছে দেওয়ার জন্য। নিজের ঘরে অবস্থান করা লোকেরাও আপনার মার্কেটিং করা প্রোডাক্ট বা সার্ভিস অনেক সহজেই দেখার সুযোগ পাচ্ছে।

 যে কারণে সোস্যাল মিডিয়া সম্পর্কে জানা প্রয়োজন:

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করার আগে জানতে হবে বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে।প্রধানত ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, লিংকডইন, টিকটকের মাধ্যমে মার্কেটিং হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম মাধ্যমে মার্কেটিং বেশি ফলদায়কআবার ইউটিউব ব্যবহার কারীর সংখ্যাও বাংলাদেশে কম নয়। বলা যায় ফেসবুকের পর ইউটিউবের স্থান

সুবিধা:

ডিজিটাল মার্কেটিং মার্কেটিংয়ের সুবিধা অনেক। এর বড় সুবিধা হচ্ছে আপনি যে কোনো ব্র্যান্ড, প্রোডাক্ট বা মুহূর্তের ক্রেতার সাথে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব। অল্প সময়ে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাইলে আপনি ডিজিটাল মার্কের্টিং করতে পারেন। যেমন, কেউ যদি নারীদের পোশাক নিয়ে বিজনেস করে, সেক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়াগুলো শুধু নারীদের কাছেই পণ্যের বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে সুযোগ দেবে। একইভাবে যদি কেউ বই বিক্রি করতে চায় তাহলে ডিসপ্লে করা বইগুলো বইপ্রেমীরাই দেখবে। ফলে পণ্যের বিজ্ঞাপন ওইসব লোকের কাছে পৌঁছানোর সম্ভবনা কম, যারা পণ্য সম্পর্কে আগ্রহী নয়আপনি চাইলেই আপনার লোকেশন, জেন্ডার বা নির্দিষ্ট কোন ক্রেতাদের কাছে আপনা প্রোডাক্ট প্রমোশন করতে পারেন

 ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক বড় একটা ক্ষেত্রদিন দিন এর পরিধি বৃ্দ্ধি পাচ্ছে। জনপ্রিয় ডিজিটাল মার্কেটিং এর শাখাগুলো হচ্ছে

সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং : ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার, পিন্টারেস্ট ইত্যাদি

ভিডিও মার্কেটিং : ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম, টিকটক ইত্যাদি

লিঙ্কডইন মার্কেটিং : বি বি বিজনেসের জন্য

মোবাইল অ্যাপ মার্কেটিং : মোবাইলের বিভিন্ন মাধ্যমে এড দেয়া

ইমেইল মার্কেটিং : ইমেইল ক্যাম্পেইন, ইমেইল অটোমেশন ইত্যাদি

এসইওসার্চ ইঙ্গিন অটোমেশন; ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন (যেমনgoogle সার্চ এর রেজাল্টে প্রথম পেজে নিয়ে আসা, অরগানিক সার্চে)

কনটেন্ট মার্কেটিং : বিভিন্ন ডিজিটাল (অডিও ভিডিও) কনটেন্ট তৈরি করে সেগুলো প্রচার করে মার্কেটিং করা

মেসেঞ্জার মার্কেটিং : হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ফেসবুক চ্যাটবট

অডিও/পডকাস্ট মার্কেটিং: 

ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং: অনলাইনে কোন কোম্পানির বা প্রোডাক্টের ব্র্যান্ডকে সঠিক অনলাইন ব্র্যান্ড গাইডলাইন ফলো করে ম্যানেজ করা

রেপুটেশন ম্যানেজমেন্ট: অনলাইনে কোন কোম্পানির বা প্রোডাক্টের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখাই রেপুটেশন ম্যানেজমেন্ট

-কমার্স বা এফকমার্স শপ মার্কেটিং: নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করে মার্কেটিং করা। এফ কমার্স মূলত ফেসবুক ভিত্তিক ব্যবসা বাণিজ্যকেই বুঝায়

উকমার্স স্টোর ম্যানেজমেন্ট: অনলাইন স্টোরের জন্য রেডি করা, প্রোডাক্ট আপলোড করা, কাস্টমাইজ করা, এসইও ফ্রেন্ডলি করা ইত্যাদি

অনলাইন পেইড অ্যাডভারটাইজমেনটঃ এর মাধ্যমে আপনি টাকা দিয়ে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেনযেমন- ফেসবুকের পেইড অ্যাডভারটাইজমেন্ট

গুগল অ্যাড ওয়ার্ডস : ডিসপ্লে ব্যানার অ্যাড, ইউটিউব অ্যাড, সার্চ পেজ অ্যাড ইত্যাদি

লোকাল ডিসপ্লে নেটওয়ার্ক: গুগল পরিষেবা দিয়ে থাকে

একজন মানুষের পক্ষে এতগুলো বিষয়ে দক্ষ হওয়া সম্ভব নয়। আর যদি সম্ভব হয়ও তাহলে তার অনেক বছর লেগে যেতে পারে। কারণ একেক প্লাটফর্মে মার্কের্টিং কৌশল একেক রকম

আপনি যদি কোন অনলাইন মার্কেটিংয়ে লোক নিয়োগ করেন তাহলে সে কি ধরণের কাজে এক্সপার্ট তা জেনে নিন।নতুবা ভুল মানুষকে নিয়োগ করলে কোন লাভতো হবেই নাই হবে না মধ্যে থেকে একজন আরেকজনকে দোষারোপ করবেন

ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করতে চাইলে আপনাকে যেকোন /১টি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে বাকিগুলো কাজ করতে করতে ধীরে ধীরে শিখে নিবেন

যদি নিজেই ব্যবসা পরিচালনা করেন তাহলে আপনি এগুলো নিজে নিজে শিখে নিবেন এবং প্র্যাকটিস করবেন। ভুল করলেও হতাশ হবেন না

কারণ প্রাকটিস ব্যতিত আপনি পারফেকশন অর্জন করতে পারবেন না

যদি নিজে নিজে কষ্ট করে শিখতে না  চান এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডিজিটাল মার্কেটিং কনসালটেন্টের সহযোগিতা নিতে পারেন

                                                                     -------------------